রক্ত জবা বাড়ন্ত, চাহিদা তুঙ্গে কাগজ প্লাস্টিকের জবা মালার - The News Lion

রক্ত জবা বাড়ন্ত, চাহিদা তুঙ্গে কাগজ প্লাস্টিকের জবা মালার




দি নিউজ লায়ন ;  এ যেন দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো। কালী পুজোয় জবা ফুলের চাহিদা মেটাতে ব্যাপক বিক্রি হচ্ছে কাগজ ও প্লাস্টিকের জবা ফুলের মালা। চাহিদা বাড়ার জন্য হাসি ফুটেছে বিক্রেতাদের মধ্যে। লকডাউনের পর এই প্রথম কৃত্তিম জবা ফুলের মালা বিক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তির পরিস্থিতি দেখা গেল। বিক্রেতাদের বক্তব্য, প্রকৃত জবা ফুলের চাহিদা কালীপুজোয় সবসময় থাকে। তার জোগান অনেক সময় দিতে পারে না ফুল ব্যবসায়ীরা। যার কারণে এখন কাগজ ও প্লাস্টিকের জবা ফুলের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। 


৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এই ধরনের জবা ফুলের মালা। যা কিনতে এখন থেকেই ক্রেতাদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। এমনকি অনেক মৃৎশিল্পীরা কালি মূর্তির জবা ফুলের মালা বায়না করেছেন। এতে করে ভালই লাভ করছেন বিক্রেতারা। মালদা শহরের চিত্তরঞ্জন পুরো মার্কেট, নেতাজি পুরো মার্কেট ছাড়াও রাজমহল রোড, ফোয়ারা মোড় , কে.জে. স্যানাল রোড সহ একাধিক এলাকায় রাস্তার ধারে পসরা সাজিয়ে বিক্রি হচ্ছে কাগজ ও প্লাস্টিকের জবা ফুলের মালা। 


৪০ টাকা থেকে শুরু করে ১৬০ এবং ২০০ টাকা পর্যন্ত এই ফুলের মালা দাম রয়েছে। রঙিন চকমকে এই মালা কিনতে ভিড় করছেন বহু ক্রেতারা। এতে করে নিজেদের হাতে তৈরি এই ক্ষুদ্র শিল্পের মর্যাদা এবং উপার্জন অনেকটাই তুলনামূলক ভালো হয়েছে বলেও দাবি বিক্রেতাদের। মালদা শহরের চিত্তরঞ্জন পুরো মার্কেট এলাকার ফুলের মালা বিক্রেতা শংকর দাস বলেন , বিভিন্ন এলাকার কিছু স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং সোলার সাজের শিল্পীরা নিজেদের বাড়িতেই প্লাস্টিক ও কাগজ দিয়ে জবা ফুলের মালা তৈরীর কাজ করে থাকেন। 


তাদের কাছ থেকেই বরাত দিয়েই আমরা এই মালাগুলো কিনে নিয়ে আসছি। লকডাউন এবং করোন আবহের মধ্যে দুশ্চিন্তায় ছিলাম, আদৌ প্লাস্টিক ও কাগজের জবা ফুলের মালা বিক্রি হবে কিনা। কিন্তু ভাবনাটা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধরনের ফুলের মালার চাহিদা ব্যাপক দেখা দিয়েছে। আসলে প্রকৃত জবাফুলের জোগান অনেকটাই কমে গিয়েছে। তাই কালীপুজোয় এই ধরনের কৃত্রিম মালার চাহিদা বেড়েছে। 


এর ফলে লাভের আশা বেড়েছে। মালদা শহরের কালিতলা এলাকার কাগজ ও প্লাস্টিকের জবাফুল প্রস্তুতকারক অনামিকা দাস, সাগরিকা দাস বলেন , শুধু জবা ফুল তৈরি , সোলার সাজের কাজ আমরা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছি। বর্তমান সময়ে প্রকৃত জবা ফুলের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন অনেকটা কমেছে। আর সেই চাহিদা পূরণ করতে কৃত্তিম এই ধরনের ফুলের মালা মানুষের মধ্যে কেনার আগ্রহ বেড়েছে। 


এতে ঘরোয়া কুটিরশিল্পে যারা জড়িত তাদের লাভের দিকটা মজবুত হয়েছে। লকডাউন পরিস্থিতির পর এই ধরনের মালার চাহিদা যে বাড়বে তা আমাদের ভাবনার মধ্যেই ছিল না। এখন পাইকার এবং ব্যবসায়ীরা কৃত্তিম জবা ফুলের মালার বায়না দিচ্ছেন। আর তা তৈরিতেই এখন সকলেই ব্যস্ত।


 ইংরেজবাজারের বিধায়ক নিহার ঘোষ জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘরোয়া হস্তশিল্পের কাজের অগ্রগতি যেন আরো বেশি করে হয়, সেই ব্যবস্থাই সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়েছে। এতে করে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা এবং ঘরোয়া হস্ত শিল্পের সঙ্গে জড়িত তারা রয়েছেন তারা স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.